চুম্বকক্ষেত্র সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর

Q.1. স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে কাচালােহা অপেক্ষা ইস্পাত অধিক উপযােগী কেন? ইস্পাত ছাড়া আর কী কী পদার্থ এই কাজে উপযোগী? 

উত্তর: স্থায়ী চুম্বকনির্মাণের জন্য যে চৌম্বক পদার্থ ব্যবহার করতে হয় তার ধারণ ক্ষমতা ও সহনশীলতা উচ্চমানের হওয়া প্রয়ােজন। কাঁচা লােহার চৌম্বক ধারণক্ষমতা ইস্পাত থেকে সামান্য বেশি বলে কাঁচা লােহার চুম্বককে যথেচ্ছ ব্যবহার করলে তার চুম্বকত্ব সহজে বিনষ্ট হয়। ইস্পাতের সহনশীলতা বেশি হওয়ায় ইস্পাতের চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না। এই কারণে স্থায়ী চুম্বক নির্মাণে কাঁচা লােহার চাইতে ইস্পাতের ব্যবহার বেশি উপযােগী।

          ইস্পাত ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, আয়রন, কপার-এর সংকর ধাতু অ্যালনিকো এবং টাইটেনিয়াম,কোবাল্ট, নিকেল, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন ও কপার-এর সংকর ধাতু টিকোনাল-স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।



Q.2. চৌম্বক সম্পৃক্তি বলতে কী বােঝ?

উত্তরঃ কোনাে চৌম্বক পদার্থকে বহিস্থ কোনাে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে কিছু কিছু অণুচুম্বক বহিঃস্থ ক্ষেত্রের অভিমুখে সজ্জিত হয়, ফলে ঐ চৌম্বক পদার্থটি ক্ষীণ চুম্বকে পরিণত হয়। বহিস্য চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের মানক্রমাগত বৃদ্ধি করতে থাকলে আরও বেশি সংখ্যক ডােমেইনের অক্ষ চৌম্বক ক্ষেত্রাভিমুখী হয়। ফলে চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্বের মাত্রাও বেড়ে যায়। এইভাবে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের মান বাড়াতে থাকলে এমন এক অবস্থা আসে যখন চৌম্বক পদার্থের সবগুলি ডােমেনের অক্ষ বহিথ চৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখে সজ্জিত হয়। এই অবস্থায় পদার্থের চুম্বকত্বের মাত্রাও সর্বোচ্চ হয়। এরপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্য বৃদ্ধি করলেও এই পদার্থের চুম্বকত্বের মাত্রা আর বৃদ্ধি পায় না। এই ঘটনাকে চৌম্বক সম্পৃক্তি বলে।

       সুতরাং, বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কোনাে চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্বের মান বাড়াতে থাকলে এমন এক সময়। আসে যখন চৌম্বক প্রাবল্যের মান বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্বের মান আর বৃদ্ধি পায় না। এই অবস্থায় চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্বের মান সর্বোচ্চ স্তরে পৌছায়। এই ঘটনাকে চৌম্বকসম্পৃক্তি বলে।

Q.3. আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের মান কোন্ কোন্ বিষয়ের উপর নির্ভর করে?

উত্তর: আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের মান যে সব বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেগুলি হল-

(i) কুণ্ডলী ও চুম্বকের আপেক্ষিক গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে এর মান বৃদ্ধি পায়।

(ii) চুম্বকের মেরুশক্তি বাড়লে এই আবিষ্ট তড়িচ্চালক বলের মান বৃদ্ধি পায়।

(iii) এই তড়িচ্চালক বলের মান কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার সমানুপাতিক।

(iv) আবিষ্ট তড়িচ্চালক বল ঋজু পরিবাহীর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক।

Post a Comment

Previous Post Next Post