জীবন প্রক্রিয়া সমূহ

 Q.1. শ্বসনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করাে।

শসনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

[i] কোশীয় শসনবস্তুর জারণ ও শক্তি উৎপাদন : 

     উৎসেচক নিয়ন্ত্রিত যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোশস্থ খাদ্যবস্তু বা শ্বসনবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে

জারিত হওয়ায় শ্বসনবস্তু মধ্যস্থ বা খাদ্যস্থ থৈতিক শক্তির রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর ঘটে ও শক্তিসমৃদ্ধ ফসফেট যৌগে তা আবদ্ধ হয় এবং CO2, H2O ও বিভিন্ন জৈব পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাকে শ্বসন বলে।

[ii] খাদ্যশক্তির মুক্তি:

         প্রতিটি জীবের জৈবিক ধর্ম অব্যাহত রাখার জন্য শক্তি আবশ্যক। সমস্ত প্রকার শক্তির মূল উৎস সূর্য হলেও জীবের কাছে এই শক্তির উৎস হল খাদ্য। স্বভােজী জীবেরা সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে খাদ্যের মধ্যে স্থৈতিক শক্তি হিসেবে আবদ্ধ করে। খাদ্যে শক্তি নিহিত থাকলেও খাদ্য একে নিজের থেকেই বিমুক্ত করতে পারে না। শ্বসন নামক অপচিতি প্রক্রিয়াটি খাদ্যস্থ শক্তির বিমুক্তি ঘটায় এবং এই শক্তিই জীবের জৈবিক কাজে ব্যবহৃত হয়।

[iii] শক্তিধর যৌগ সৃষ্টি: 

          শ্বসনের প্রধান উদ্দেশ্য হল খাদ্যস্থ স্থিতিশক্তিকে গতি শক্তিতে রূপান্তরিত করা। খাদ্যস্থ শক্তির বেশিরভাগ অংশই তাপশক্তি হিসেবে মুক্ত হয় এবং কিছুটা অংশ শক্তিধর যৌগ ATP গঠিতহয়। ATP জীবকোশে ব্যবহারযােগ্য রাসায়নিক শক্তির সবচাইতে সহজলভ্য রূপ। একটি ATP অণুতে দুটি উচ্চশক্তির বন্ধনী থাকে। ADP এবং Pi থেকে ATP উৎপাদনে 7.3 Kcal সঞ্চিত হয়। আবার একটি ATP-

এর ভাঙনে সমপরিমাণ শক্তি বিমুক্ত হয়। কোশের জৈবিক ক্রিয়ার জন্য প্রয়ােজনীয় শক্তি, শক্তিধর জৈবযৌগ ATP থেকে আসে বলে ATP-কে এনার্জি কারেন্সি বলা হয়।




Q.2. রেচনের গুরুত্ব আলোচনা করো।

রেচনের গুরুত্ব:
[i] জীবদেহ সুস্থ রাখা:

        জীবকোশগুলিতে প্রতিনিয়ত বিপাকক্রিয়া চলে। এই বিপাকক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন দূষিত রেচন পদার্থগুলি রেচনের মাধ্যমে দেহ থেকে অপসারিত হয়ে দেহকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখে।

[ii] প্রােটোপ্লাজমীয় বস্তুর সমতা রক্ষা:    

         জীবকোশের প্রােটোপ্লাজমে অপচিতি বিপাকের ফলে যেসব দূষিত ও ক্ষতিকর পদার্থের সৃষ্টি হয় সেগুলি অপসারিত না হলে প্রােটোপ্লাজমের বিপাকীয় ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেত এবং কোশের মৃত্যু ঘটত। রেচনের ফলে এই সমস্ত বিপাকজাত দূষিত পদার্থগুলি কোশদেহ থেকে অপসারিত হয়ে প্রােটোপ্লাজমীয় বস্তুর সমতা রক্ষা করে।

[iii] দেহে জলসাম্য বজায় রাখা:

        রেচনের ফলে জীবদেহ থেকে অতিরিক্ত জল নির্গত হয়। এইভাবে দেহে জলের সাম্যতা বজায় থাকে।

[iv] প্রাকৃতিক সম্পদের আবর্তন: 

        জীবদেহের গঠনােপযােগী পদার্থগুলি জীব যেমন পরিবেশ থেকে গ্রহণ করে, আবার রেচনের মাধ্যমে জীব কিছু পদার্থ পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডারকে অক্ষুন্ন রাখতে সাহায্য করে। এইভাবে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে জীবদেহের গঠনােপযােগী পদার্থগুলির পর্যায়ক্রমিক আবর্তনে রেচনের ভূমিকা অপরিসীম। 

[v] অর্থনৈতিক গুরুত্ব: 

         উদ্ভিদের বিভিন্ন রেচন পদার্থ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। কাষ্ঠশিল্পে, ভেষজ শিল্পে, চর্মশিল্পে উদ্ভিদের রেচন পদার্থের অর্থকরী গুরুত্ব আছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post